ভারত বর্তমানে একটি উগ্রবাদী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে, যেখানে হিন্দুদের প্রাধান্য এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি তীব্র বৈষম্য স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ঘটছে, যা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণাকে ক্রমাগত প্রশ্নবিদ্ধ করছে। হিন্দু জাতীয়তাবাদী শক্তি, বিশেষ করে বিজেপি এবং তার সমর্থকরা, মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে।
ভারতের ইতিহাসে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ এবং অত্যাচারের ঘটনা নতুন নয়। ১৯৯২ সালে হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে। এই ঘটনা ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বড় আঘাত ছিল এবং এর ফলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেখা দেয়, যেখানে হাজার হাজার মুসলিমদের হত্যা করা হয়। এর পরও ২০২২ সালে ভারত সরকার বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করে, যা মুসলিমদের জন্য আরেকটি চরম অবমাননামূলক ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। এই পদক্ষেপ শুধু মুসলিম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত নয়, বরং ভারতীয় গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় সহাবস্থানের ওপর একটি বড় আঘাত।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, মহারাষ্ট্রে এক পুরোহিতের মহানবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ধারাবাহিকতার অংশ। এই ধরনের উস্কানিমূলক কাজগুলোর পেছনে বিজেপি ও তাদের সমর্থকদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। যদিও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই ধরনের কার্যক্রম থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করে, তবে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক বিজেপি নেতা এই উগ্রবাদী বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে।
ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা শুধু মুসলিমদের নয়, অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধেও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। তারা উস্কানিমূলক, অশ্লীল এবং অপমানজনক মন্তব্য করে সমাজে বিভাজন তৈরি করছে। এই কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, তারা ধর্মের নামে উগ্রবাদ ছড়ালেও নিজেরাই নিজেদের ধর্মীয় আদর্শ মেনে চলে না। তারা শুধু ধর্মের নামে ক্ষমতা দখল করতে চায়, এবং তাদের আচরণ অনেকটা নাস্তিকদের মতো, যারা অন্য ধর্মকে হেয় করে এবং সেই ধর্মের অনুসারীদের অবমাননা করে।
ভারতীয় উগ্রবাদীরা নাস্তিকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মুসলিম ধর্মসহ অন্যান্য ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে এবং তা দিয়ে সম্প্রীতি ধ্বংস করে। এমনকি, তারা নিজেরাই ধর্মের মূল নীতিগুলো মানে না। তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য ধর্মের ভেকধারণ করে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রমাণ করে যে, তারা ধর্মের কোনো মূল্যবোধকে ধারণ করে না।
এই উগ্রবাদী কার্যক্রম শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ শান্তি নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। আজ সময় এসেছে, এই ধরনের উগ্রবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার।
